You Are Here: Home » featured » তিস্তাসহ ভারতীয় আগ্রাসন ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে -মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ

তিস্তাসহ ভারতীয় আগ্রাসন ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে -মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ

তিস্তাসহ ভারতীয় আগ্রাসন ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে -মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেছেন, আর্ন্তজাতিক আইন লংঘন করে ভারত তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করছে। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। পানির জন্য মানুষের মধ্যে হাহাকার লেগে গেছে। শুধু তিস্তা নয়, বরাক নদীর টিপাইমুখে এবং অভিন্ন ৫৪ নদীর মুখে বাঁধ নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশকে মরুভুমিততে পরিণত করতে চায় ভারত। এ বাঁধের ফলে ৩০ বছরে বাংলাদেশের ৬০ ভাগ ভূমি মরুভূমিতে পরিণত হবে, দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র ধংস হবে, প্রায় ৩ কোটি মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হবে। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। ফারাক্কাসহ দেশবিরোধী এমন বাধঁ দেশপ্রেমিক জনতা কোনোভাবেই মেনে নিবে না ।
তিনি বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার ব্যর্থ হলে দেশপ্রেমিক জনতা দিল্লির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশ রক্ষায় প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য হবে। তিনি তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে জনমত গড়ে তুলতে দেশের সচেতন দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি আহবান জানান ।

মাওলানা মাদানী আরো বলেন, ৫ জানুয়ারী পাতানোর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসে ভারতকে খুশি করতে যাইচ্ছে তাই করছে। সরকার যদি ভারতের সাথে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে ব্যর্থ হয় তাহলে ভারতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে কোন কঠিন আন্দোলনের বিকল্প নেই।

শনিবার বিকাল ৪টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবী এবং ভারতীয় পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, কেন্দ্রীয় নেতা কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, নগর নেতা অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, এইচ এম সাইফুল ইসলাম, নুরুজ্জামান সরকার, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ। মানববন্ধনে ভারতের আগ্রাসনে বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্লেকার্ড, ফেস্টুন, ব্যানার দৃষ্টিগোচর হয়।

সভাপতির বক্তব্যে হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ভারত সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে। তারপরও ভারতকে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে একতরফা ও অন্যায্য বিদ্যুৎ করিডোর প্রদান করে দেশপ্রেমিক জনতাকে মর্মাহত করেছে। তিস্তা নদীসহ আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারকে সম্মিলিতভাবে চাপ দিতে হবে। প্রয়োজনে পানি আদায়ে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারত বাংলাদেশের মানুষকে পাখির মতো হত্যা করছে। কিন্তু তার কোনো বিচার হচ্ছে না। ফেলানীকে মেরে তারে ঝুলিয়ে রেখে বাংলাদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। তারপরও আমাদের দেশের সরকারগুলোর ভারতের তোষন করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা ক্ষমতায় গিয়ে নিজস্ব এজেন্ডার বাইরে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রতিবাদ করে না। তিনি ভারতপ্রেমিক সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।

Comments

comments

About The Author

কপিরাইট © ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০১১ সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

Scroll to top