You Are Here: Home » featured » দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলছে; অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে দেশ -পীর সাহেব চরমোনাই

দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলছে; অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে দেশ -পীর সাহেব চরমোনাই

দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলছে; অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে দেশ -পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীর সর্বোচ্চ শাস্তি ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আইন অনতিবিলম্বে পাশ করতে হবে। দেশে চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চরম আকার ধারণ করছে। দেশে অঘোষিত একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলছে। দেশ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য সরকার নিজেই দায়ী। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি সকল দলের গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই দ্রুত তত্বাবধায়ক সরকার দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় সকল পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে।

সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পূর্ণ স্থাপন, মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীর সর্বোচ্চ শাস্তি, আল্লাহ ও রাসুল সাঃ এর দুশমন নাস্তিক মুরতাদদের শাস্তির আইন পাশ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, সু-শাসন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস-দুর্নীতির মুলোৎপাটন এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের ৫ দফা দাবী বাস্তবায়ন ও ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) খুলনার খালিশপুরস্থ ক্রিসেন্ট জুটমিল গেটে বাদ জুমআ ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন-এর খুলনা জেলা উত্তর সভাপতি এসএম আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহরাব হোসেন হাওলাদারের পরিচালনায় শ্রমিক জনতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, খুলনা খালিশপুরসহ দেশের বন্ধ সকল মিল-কলকারখানা চালু, শ্রমিকদের পাওনা ও ন্যায্য অধিকার পূরণ করতে হবে। শ্রমিকদের নির্যাতন এবং রুটি রোজগার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নে দেশব্যাপি আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তাই দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রমিকদেরকে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি সদ্য দক্ষিন এশিয়ার বৃহৎ ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদেরকে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার সংবিধানের ধারা থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়ে তদস্থলে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ স্থাপন করে মুসলমানদেরকে ধর্মহীন করার ব্যবস্থা করেছে। যেটা আমরা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই এবং অতি সত্বর সংবিধানে সংশোধনী এনে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। আওয়ামীলীগ জোট সরকারের আমলইে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লািতফ সিদ্দিকীসহ বেশ কিছু নাস্তিক মুরতাদরা আশফলন করে যাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে বর্তমান সরকার তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আজকের এই শ্রমিক জনতা সমাবেশ থেকে দাবী জানাচ্ছি অতি সত্তর সংবিধানের মধ্যে নাস্তিক মুরতাদদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাশ ও নাস্তিক আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। নাস্তিকদের ব্যাপারে আইন পাশের জন্য প্রয়োজনে গণভোটের ব্যবস্থা করা হোক। মুসলমানরা নাস্তিকদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্যই রায় দিবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়। ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জুলুম নির্যাতন চালিয়ে প্রহসণের নির্বাচন করে এবং ইসলামের উপর আঘাত হেনে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংশ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষ আর এ সরকার কে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা জানে ক্ষমতা থেকে নামলে জনগণ তাদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী বলেন ঘুষ দেওয়া-নেওয়া নাকি অপরাধ নয়। এ সরকার দুর্নীতির বৈধতা দিয়েছে। দুদক দুর্নীতি মুক্তির সার্টিফিকেট বিতরণ করছে। দুদক এখ দুর্নীতির আখড়া। পদ্মা সেতুর দুর্নীতি বিচার চলছে বিদেশে আর দুদক আসামীদের দায় মুক্তি দিয়েছে। শেখ হাসিনার ভাষায় এই দুনীর্তিবাজরা দেশ প্রেমিক। ৩৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে তারা। ব্যাংক গুলো দেউলিয়া হয়ে গেছে। মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীর বিচারের দাবীতে গত ২০ অক্টোবর’১৪ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরের মিছিলে হামলা ও নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করেছে এবং ঢাকা-রংপুর রোডমার্চে বিভিন্ন জায়গায় পথ সভার ষ্টেজ ভাংচুর এবং সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। এতে প্রমাণীত হয় এই সরকার লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষের সরকার।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় ভাবে খোদাভীরুতা না থাকায় সর্বত্র দুর্নীতিবাজরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে পুটে খাচ্ছে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও কায়েমী স্বার্থবাদ প্রতিহত করে সমাজের সর্বক্ষেত্রে খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই মহাদুর্নীতিবাজ নেতাদের কাছে দেশ, জাতি ও ইসলাম নিরাপদ নয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ইসলামের সুমহান আর্দশে সবাইকে ফিরে আসতে হবে। কাজেই আসুন দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে বাংলার জমিনে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ি।

শ্রমিক জনতা সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল। বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব মুহাঃ আশরাফ আলী আকন, নগর সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক, জেলা সভাপতি প্রভাষক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, নগর সেক্রেটারী শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারী মোঃ আক্তারুজ্জামান উজ্জল, ডাঃ কেএম আল আমিন এহসান, শেখ মোঃ জামিল আহম্মেদ, শেখ হাসান ওবায়দুল করীম প্রমুখ।

ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছরে এদেশের জনগণ আজও সেই কাঙ্খিত মুক্তি ও শান্তির মুখ দেখেনি। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে যারা এ পর্যন্ত এদেশে ক্ষমতার মসনদে আছে এবং ছিল তারা দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি জনাব মুহাঃ আশরাফ আলী আকন তার বক্তব্যে বলেন, এদেশে বেশির ভাগ মানুষ শ্রমজীবি কিন্তুু তাদের শ্রমের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং তাদের ন্যায্য দাবী পূরণ করা হয় না। খুলনার শিল্প নগরী আজ মৃতনগরীতে পরিণত হয়েছে। বন্ধ সকল মিল কলকারখানা অনতিবিলম্বে চালু করা এবং শ্রমিকদের গায়ের ঘাম শোকানোর আগে তাদের মজুরী প্রদান এবং ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য শ্রমিকদেরকে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের পতাকাতলে সমবেত হয়ে শ্রমিকদের দাবী আদায়ের জন্য ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি নগর সভাপতি মাও. মুজ্জাম্মিল হক বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ইসলাম, দেশ ও জনগণের সার্বিক শান্তি ও মুক্তির জন্য ইসলামী শাসনতন্ত্রের বিকল্প নেই। তাই এদেশে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশবাসীকে সাথে নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে হাতপাখা মার্কার প্রতি সমর্থন বাড়িয়ে সকলকে ইসলামের পতাকাতলে আসার আহ্বান জানান।

Comments

comments

About The Author

কপিরাইট © ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০১১ সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

Scroll to top