You Are Here: Home » featured » ধর্মবিদ্বেষীদের আস্ফালন বেড়েছে সরকারের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির কারণেই; ধর্মঅবমাননার বিরুদ্ধে আইন পাস না হলে সর্বাত্মক গণআন্দোলন -পীর সাহেব চরমোনাই

ধর্মবিদ্বেষীদের আস্ফালন বেড়েছে সরকারের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির কারণেই; ধর্মঅবমাননার বিরুদ্ধে আইন পাস না হলে সর্বাত্মক গণআন্দোলন -পীর সাহেব চরমোনাই

ধর্মবিদ্বেষীদের আস্ফালন বেড়েছে সরকারের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির কারণেই; ধর্মঅবমাননার বিরুদ্ধে আইন পাস না হলে সর্বাত্মক গণআন্দোলন -পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সংগ্রামী আমীর হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ ১৬ কোটি মানুষের ৯০ ভাগ মুসলমানের ঈমান ও বিশ্বাসের দাবি। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মূলনীতি থেকে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতি বিলুপ্ত করে সরকার মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। আ. লতীফসহ ধর্মবিদ্বেষীদের আস্ফালন বেড়েছে সরকারের এ ধর্মনিরপেক্ষ নীতির কারণেই।

৩১ অক্টোবর’১৪ শুক্রবার বেলা ২ ঘটিকায় চট্টগ্রাম আগ্রাবদস্থ ঐতিহাসিক জাম্বুরি মাঠে সংবিধানের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন, ফিলিস্তিন-আরাকানসহ সারা বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, অবিলম্বে নিদর্লীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, নাস্তিক্য ও ধর্মবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সংসদে আইন পাস এবং দেশের স্থায়ী শান্তি ও মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই সরকারের ধর্মের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশ হাসিনা-আওয়ামী লীগের দেশ নয়। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সমালোচনার কারণে কারাদণ্ড হলে ধর্মবিদ্বেষীদেরও সাজা হতে হবে। সংবিধান থেকে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ সরকার ইসলামের গোড়া কেটে দিয়েছে, মুলসানদের কলিজায় হাত দিয়েছে। অবিলম্বে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বিলুপ্ত করে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করা না হলে এবং ধর্মবিদ্বেষীদের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিসংবলিত আইন পাস করা না হলে সর্বাত্মক গণ-আন্দোলনের ডাক দেওহা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন পীর সাহেব চরমোনাই।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শ্রম ও কৃষিবিষয়ক সম্পাদক, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নগর সভাপতি আলহাজ জান্নাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর চরমোনাইয়ের পীরে কামেল হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ফিলিস্তিন ও আরাকানসহ সারা বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত গণহত্যা চলছে। ইতোমধ্যে মুসলমানদের প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দস তথা মসজিদে আকসা মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইহুদীবাদী ইসরাইল। মসজিদে আকসা পুনরুদ্ধারে বর্ণবাদী জারজ ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার আর আপনার পরিবারের কটূক্তির সাজা হলে এদেশের লক্ষ কোটি মানুষের কলিজা টুকরা মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে কটূক্তির সাজা হতে হবে মৃত্যুদণ্ড। আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর ইজ্জতরক্ষার জন্যেই আমাদের আন্দোলন।

মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, সাংবিধানিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত ও রাজনীতিকভাবে মীমাংসিত ‘নিঃর্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা’ বাতিল করে আওয়ামী লীগ তাদের বাকাশালী একদলীয় একনায়কতন্ত্রী স্বৈরতন্ত্রী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এ সরকারের আচরণে বাকশালী স্বৈরতন্ত্রী ফ্যাসিবাদের প্রতিধ্বনী শুনতে পাওয়া যায়। অবিলম্বে ‘নিঃদর্লীয় নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ সাংবিধানিকভাবে পুর্নবহাল করে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজনের জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ জান্নাতুল ইসলাম বলেন, সরকার বিড়াল দেখলে বাঘের ভয় পাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বিড়াল নয়, ভদ্র সিংহ অহিংস্র বাঘ। একবার গর্জে ওঠলে আওয়ামী সরকার দেশ থেকে পালানোর সুযোগও পাবে না। সরকার নাস্তিকতার বিরুদ্ধে গণজোয়ার দেখে লালদিঘির অনুমতি বাতিল করেছে, এতে প্রমাণিত হয়েছে সরকার ধর্মবিদ্বেষীদের সহযোগী।

মহাসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চরমোনাইয়ের পীর সাহেবের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আশরফ আলী আকন, যুগ্ন মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্রনেতা আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সহকারী দফতর সম্পাদক মুফতী মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ সেলিম মাহমুদ, জামিয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ আহমদ, জামিয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়ার সহকারী পরিচালক আল্লামা জসিম উদ্দীন নদভী, জামিয়া দরুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা ফরিদ আহমদ আনসারী, প্রবাসী নেতা মাহমুদ খান, অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল আলম, মাওলানা জসিম উদ্দীন ফারুকী, নুরুল ইসলাম বিএসসি, আলহাজ আলী আকবর, আলহাজ আবুল কাশেম মাতব্বর, একেএম মহিউদ্দীন, মুহাম্মদ আল-ইকবাল, তা’লীমুল কুরআন কমপ্লেক্স চট্টগ্রামের পরিচালক হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব, মাওলানা হাবিবুর রহমান নদভী, মাওলানা শফকত হোসাইন চাটগামী, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান আজাদ, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, কাজী রফিকুল ইসলাম, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, জামিয়া বায়তুল করীম হালিশহরের পরিচালক মাওলানা ইসমাঈল হোসাইন জিহাদী, মাওলানা মনসুরুল হক জিহাদী, মাওলানা বোরহান উদ্দীন আল-বারী, মাওলানা সানাউল্লাহ নূরী, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জিহাদী, শ্রমিক নেতা মাওলানা ওয়ায়েজ হোসাইন ভূঁইয়া, শ্রমিক নেতা মাস্টার আবদুল মতিন, ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার মুশতাক আহমদ, মাওলানা মুহাম্মদ আলী, আলহাজ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, আলহাজ, মাওলানা সুলতানুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল হামিদ, এবিএম অলিউল্লাহ, মাওলানা শোয়াইব, ডা. মুহাম্মদ রেজাউল করীম, আবদুর রহীম মোল্লা, ছাত্রনেতা ইবরাহীম আনোয়ারী প্রমুখ।

Comments

comments

About The Author

কপিরাইট © ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০১১ সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

Scroll to top