You Are Here: Home » featured » রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হলে রমজানেও আন্দোলন চলবে -পীর সাহেব চরমোনাই

রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হলে রমজানেও আন্দোলন চলবে -পীর সাহেব চরমোনাই

রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হলে রমজানেও আন্দোলন চলবে -পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, মুসলমানরা সবচেয়ে সহনশীল জাতি ও শান্তিকামী। যদি বৌদ্ধ ও হিন্দুসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো উগ্র হতো তাহলে ভারত উপমহাদেশে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা থাকতে পারতো না। মুসলমানরা শান্তিকামী বলেই সবচেয়ে আরামে আছে উপমহাদেশে সংখ্যালঘু জাতিরা। তিনি মিয়ানমারের মুসলমানদের নাগরিক সকল সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। বিশ্বের সকল মুসলমানদের মিয়ানমারের মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

স্বঘোষিত নাস্তিক আ. লতিফসহ ধর্মের বিরুদ্ধে আঘাতকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, নাস্তিক-মুরতাদরা মুসলমানদের নবী ও রাসূল সা.-এর বিরুদ্ধে কটুক্তি করার সাহস পাচ্ছে কোনো নাস্তিক ও মুরতাদের শাস্তি না হওয়ায়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে পুরানা পল্টন হাউজ বিল্ডিংয়ের সামনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী রমজানের পবিত্রতা রক্ষা, মিয়ানমারের মুসলমানদের গণহত্যা বন্ধের দাবি এবং স্বঘোষিত মুরতাদ আ. লতিফ সিদ্দিকীসহ ধর্মের বিরুদ্ধে অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আয়োজিত মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে রমজানের পবিত্রতা ব্যাহত হলে ঈমানদার জনতা ঈমান রক্ষায় রমজান মাসেও আন্দোলন চালিয়ে যাবে। রহমত, বরকত ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে পবিত্র মাহে রমজান মুসলিম উম্মাহর দ্বারপ্রান্তে। সকল দিক থেকে রমজানের মাহাত্ব ও গুরুত্ব অপরিসীম হলেও রমজানের মর্যাদা আমাদের দেশে চরমভাবে ভুলুন্ঠিত। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবেও কোনো উদ্যোগ নেই। যার ফলে রমজান মাসেও একদল মুনাফাখোর ও ব্যবসায়ী রমজানকে ইনকামের মুখ্যম সময় মনে করে খাদ্যে ভেজাল দেয়া শুরু করে এবং জিনিসপত্রের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি করে রমজানের গুরুত্বকে ম্লান করে দেয়। অপরদিকে একশ্রেণির লম্পট লোক মাহে রমজানেও অশ্লীলতা-বেহায়াপনা, বেপর্দা-নগ্নতার ছড়াছড়ি করে রোজাদারদের বিপথগামী করে। এসকল অন্যায় ও খোদাদ্রোহীতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্মূল করতে কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে রোজাদাররা রোজার হেফাযতের জন্য এবং ঈমান রক্ষায় রমজান মাসেও আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। তিনি দিনের বেলা হোটেল রেস্তোরা বন্ধ করে মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষা করতে সরকারসহ সংশিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।

মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েথ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, মহানগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন ও মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, সেক্রেটারি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূূম, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, শ্রমিক নেতা মোঃ ঈমান উদ্দিন, অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, মু. মোশাররফ হোসেন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা এইচ এম সাইফুল ইসলাম, শ্রমিকনেতা সৈয়দ ওমর ফারুক, মাওলানা নাযীর আহমদ শিবলী, আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল প্রমুখ।

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় রোজাদারের অভিশাপে শেষ হয়ে যাবে। তিনি ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় সকলকে ইসলামের সুমহান আদর্শে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন বলেন, মাগফিরাত, নাজাত ও মহা গ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল ও ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার মাস রমজান। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। আর ঢাকা হলো মসজিদের নগরী। আজ মসজিদের নগরী পাপের নগরীতে পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পবিত্র মাসে অশ্লীল ছায়াছবি প্রদর্শন, বেহায়াপনাসহ অপসংস্কৃতির ব্যাপক ছয়লাব ঘটে। রেডিও, স্যাটেলাইট টিভি ও পাড়ায়-মহল্লায় গড়ে উঠা ভিডিও ক্লাবগুলোতে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও ইসলামবিরোধী ছায়াছবি প্রচার করা হয়, যাতে রমজানের পবিত্রতা চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়। আবার সাধারণ মানুষ নামাজ, রোজার কথা চিন্তা করলেও এসবের সংস্পর্শে গিয়ে ইবাদত বিমুখ হয়ে রমজানের মহানেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়। নাস্তিক-মুরতাদ ও বেঈমান মুনাফেক গোষ্ঠী ইসলাম নিয়ে ছিনিমিনি খেলা খেলতে চাইলে তা সহ্য করা হবে না।

সমাবেশ শেষে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে পল্টন হাউজবিলডিং থেকে একটি মিছিল দৈনিক বাংলা, বায়তুল মুকাররম, পুরানা পল্টন মোড় হয়ে হাউজ বিল্ডিং এসে শেষ হয়।

কর্মসূচি : ১. ১৭ জুন ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় সমাবেশ ও মিছিল ২. ইসলামী আন্দোলনের আমীর হযরত পীর সাহেব চরমোনাই স্বাক্ষরিত পত্র থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ। ৩. ১ রমজান থেকে ২০ রমজান জনমত গঠনের লক্ষ্যে থানা ও ওয়ার্ডে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল, ৪. ৫ রমজান সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার, ৫. ১৭ রমজান বাদ জোহর ঐতিহাসিক বদর দিবসের আলোচনা ও ইফতার মাহফিল।

Comments

comments

About The Author

Number of Entries : 673

কপিরাইট © ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০১১ সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

Scroll to top