You Are Here: Home » featured » শায়েখ চরমোনাই’র নেতৃত্বে সুদৃঢ় থাকলে সমাজ পরিবর্তন হবে: আল্লামা মুনীরুদ্দীন নকশবন্দী

শায়েখ চরমোনাই’র নেতৃত্বে সুদৃঢ় থাকলে সমাজ পরিবর্তন হবে: আল্লামা মুনীরুদ্দীন নকশবন্দী

শায়েখ চরমোনাই’র নেতৃত্বে সুদৃঢ় থাকলে সমাজ পরিবর্তন হবে: আল্লামা মুনীরুদ্দীন নকশবন্দী

বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের নাযিমে দারুল ইকামা উস্তাযুল ওলামা আল্লামা মুনীরুদ্দীন নকশবন্দী সাহেব (দা. বা.) বলেছেন, মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম- শায়েখ চরমোনাই’র দাওয়াতে এ মহাজলসায় অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যমান মনে করছি। রেজাউল করীম সাহেব সুন্নতে নববীর মূর্তপ্রতীক, তিনি সমস্ত মুসলমানদেরকে সুন্নতে নববীতে ভরপুর দেখতে চান। আমি সকল মুসলিম ভাই-বোন ও নওজোয়ানদেরকে কাছে আশা করবো, শায়েখ চরমোনাই’র নেতৃত্বে সুদৃঢ় থাকুন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এসে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর’১৭) চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিশাল ওয়াজ মাহফিলে বাদ এশার প্রধান অতিথির বয়ানে তিনি উপর্যুক্ত কথা বলেন।

বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ দাঈ ও পীরে তরীকত আল্লামা জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী (দা. বা.)-এর খলীফা আল্লামা মুনীরুদ্দীন বলেন, ‘ব্রিটিশরা ভারত দখল করে মুসলমানদের ঈমান ও নেতৃত্ব দুটোই কেড়ে নিয়েছিল। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করতে এবং মুসলমানদের নেতৃত্ব কায়েম করতে। মুসলমান নওজোয়ান ও যুবক ভাইয়েরা, জীবন চলে গেলে শত জীবন যাক কিন্তু আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ রাখতে রেখ। কাশ্মীর এটি ভারতের অংশ, একসময় জালিমরা সেখানে আজান নিষিদ্ধ করেছিল। আজান নিষিদ্ধ হওয়ার পর মসজিদে নামাজের জন্য আজান দিতে গিয়ে ২২টি যুবক বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, তারপরও তাঁরা আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ রেখেছিলেন। আমি আজকের এই মহতি জলসায় এমন লাখ লাখ সুন্নতে নববীতে ভরপুর যুবক নওজোয়ানকে দেখে আশান্বিত হয়েছি, তোমরা শায়েখ চরমোনাই’র নেতৃত্বে সুদৃঢ় থাকলে বাংলাদেশে ইনকিলাব এসে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’

মাহফিলে দেশের অন্যতম বৃহত্তর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া জিরির মহাপরিচালক শায়েখ আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়ব সাহেব (দা. বা.) বলেন, মুসলমানরা খানকা-টুপি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, বাতিলের মোকাবেলায় ময়দানে কেউ নেই। যাবতীয় ভেদাভেদ ভুলে শায়েখ চরমোনাই-কে সহযোগিতা করলে মুসলমানরা কামিয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।

মাহফিলের দ্বিতীয় দিবসে বিশেষ অতিথির বয়ানে মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, আল্লাহর বান্দাদেরকে আল্লাহর দেয়া শরীয়ত ও মহানবী (সা.)-এর তরীকায় আদর্শবান করে কবরের দিকে রওয়ানা করিয়ে দেওয়াই আমাদের কাজ। চরমোনাই বুঝি না, পীর-মুরীদী এবং নেতৃত্ব প্রয়োজন নেই। ভক্ত-মুরীদদের উদ্দেশ্যে শায়েখ চরমোনাই বলেন, যদি মনে করেন চরমোনাইয়ের তরীকায় গলত আছে, এর দ্বারা উপকার হচ্ছে না তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আপনারা একজন হক্কানী পীর সাহেবের হাতে হাত রেখে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেই আল্লাহর কাছে হাজির হোন এবং ঈমান-আমলের পুঁজি করেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন।

মাহফিলে বরেণ্য ওলামা-মাশায়েখের মধ্যে আরও বয়ান পেশ করেন আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার প্রধান মুফতী আল্লামা মুফতী হাফেজ আহমদুল্লাহ সাহেব, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব হযরতুল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা হাফেজ ওবাইদুল্লাহ হামজা, প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল-মাদানী, খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন হযরত মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী (কুয়াকাটা হুজুর), হযরত মাওলানা সৈয়দ আবুল খায়র মুহাম্মদ আবুল খায়র, ড. জসিম উদ্দীন নদভী, ড. বেলাল নুর আজীজী, হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল করীম, হযরত মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদরীস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মুফতী হুমায়ুন কবীর খালবী, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, মাওলানা শামসুদ্দীন আফতাব, মাওলানা মুফতী শাহাদত তাহের রশীদী, মাওলানা নুর মুহাম্মদ, মাওলানা এমদাদুল্লাহ প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম।

রবিবার সকালে আখেরি মুনাজাত: রবিবার (৩১ ডিসেম্বর’১৭) সকাল ফজরের নামাজের পর জিকির, বয়ান শেষে আখেরি মুজানাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে চরমোনাইয়ের নমুনায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের ৩দিন ব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের সমাপ্তি হবে। দেশ, জাতি ও উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (শায়েখ চরমোনাই)।

Comments

comments

About The Author

Number of Entries : 673

কপিরাইট © ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০১১ সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

Scroll to top