You Are Here: Home » featured » সকল সংকটের জন্য দূষিত রাজনীতির চর্চাই দায়ী -পীর সাহেব চরমোনাই

সকল সংকটের জন্য দূষিত রাজনীতির চর্চাই দায়ী -পীর সাহেব চরমোনাই

সকল সংকটের জন্য দূষিত রাজনীতির চর্চাই দায়ী -পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) সকল সংকটের জন্য দূষিত রাজনীতির চর্চাকে দায়ী করে বলেছেন, চলমান জাতীয় সংকট নিরসনে ব্যর্থ হলে জাতি চরম সংকটে নিপতিত হবে। বর্তমান মানব রচিত সংবিধানই সকল সঙ্কটের মূল। তিনি বলেন, মানুষের গড়া সংবিধান মানুষের কল্যাণ আনতে পারে না। যারাই ক্ষমতায় যায় তারাই নিজেদের স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করে। এ জন্য আমরা ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই; যে সংবিধান হবে সর্বজনীন, যা সকল মানুষের স্বার্থ সুনিশ্চিত করবে। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি করেছে।
ক্ষমতার জন্য এ দেশে অনেক হরতাল হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি হরতালও হয়নি। কারণ দুর্নীতি আর দেশের সম্পদ লুটপাট করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গতকালও বলেছেন তিনি জঙ্গীবাদকে এক মুহুর্তের জন্যও ছাড় দেবেন না। কিন্তু সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে এবং দলীয় সকল পর্যায়ের নেতানেত্রীরা সন্ত্রাস, দুর্নীতিতে আকুন্ঠ নিমজ্জিত হলেও সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেশবাসী লক্ষ্য করেনি। স্বাধীনতা পরবর্তী এই দু’টি দলই দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করে না, তারা রাজনীতি করে ক্ষমতার স্বার্থে। যে কোনো প্রকারে হোক তারা শুধু ক্ষমতা চায়। ক্ষমতায় আরোহনের জন্য দুই নেত্রীই বিদেশীদের কথায় চলে, তাই তারা জনগণের মনের ভাষা বুঝে না। তারা ক্ষমতার জন্য দিল্লি আর ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে থাকে। অতএব তাদের হাতে দেশ ও জনগণ নিরাপদ নয়।
পীর সাহেব চরমোনাই প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কাদেরকে খুশি করার জন্যে সংবিধানের মূলনীতি থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা বসালেন। এখন আবার কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করবেন না বলে ওয়াদা করছেন। ধোকার পথ ছাড়ুন, নয়তো আল্লাহর গজবে নিপতিত হবেন। আপনার হাতে এখনো সুযোগ আছে আপনি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানে ফিরিয়ে আনুন। তিনি আরো বলেন, একগুঁয়েমী ও জিদের পথ পরিহার এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণের কথা চিন্তা করে ভোটারবিহীন নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে অবিলম্বে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুর্নীতি-সন্ত্রাসমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে দেশের শান্তি ও মুক্তিকামী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে তরুণ সমাজই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আজ সকালে বরিশালের চরমোনাই মাদরাসায় বিভিন্ন পেশাজিবী, ছাত্র-শিক্ষকদের সাথে একান্তে কথা বলার সময় তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মুফতী সৈয়দ মোঃ ফয়জুল করীম, মুফতি জিয়াউল করীম, মাওলানা মুজিবুর রহমান, মুফতি এছহাক মু. আবুল খায়ের চেয়ারম্যান প্রমুখ।

Comments

comments

About The Author

Leave a Comment

কপিরাইট © ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২০১১ সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

Scroll to top