You Are Here: Home » featured » সমাজের সকল অশান্তি দূর করতে গণতন্ত্রের পরিবর্তে ইসলামকে গ্রহণ করতে হবে -মুফতী ফয়জুল করীম

সমাজের সকল অশান্তি দূর করতে গণতন্ত্রের পরিবর্তে ইসলামকে গ্রহণ করতে হবে -মুফতী ফয়জুল করীম

সমাজের সকল অশান্তি দূর করতে গণতন্ত্রের পরিবর্তে ইসলামকে গ্রহণ করতে হবে -মুফতী ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতী সৈয়দ মু. ফয়জুল করীম (পীরে কামেল চরমোনাই) বলেছেন, সমাজে চলমান অশান্তি দূর করতে গিয়ে মানুষ বিভিন্ন জাগতিক মতবাদ গ্রহণ করছে। কিন্তু এতে সমাজের অশান্তি না কমে বরং বেড়েই চলেছে। আসলে আল্লাহপ্রদত্ত জীবনব্যবস্থা ইসলামকে গ্রহণ না করলে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একমাত্র ইসলামই পারে দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্যা সমাধান করে দুনিয়াকে শান্তিময় বাসযোগ্য করে তুলতে।

মুফতী ফয়জুল করীম সাহেব আরো বলেন, ইসলাম শুধু ব্যক্তি জীবনে পালন করা কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম নয়। মানুষের জৈবিক যত চাহিদা রয়েছে সবকিছুর দিকনির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতিসহ সকল বিষয়ে অনুসরণীয় আদর্শের নাম হলো ইসলাম। কোনো মানুষ যদি পরিপূর্ণ ইসলামী জীবনাচার মেনে চলে, সে পরিণত হয় একজন আদর্শ মানুষে। তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্র যদি ইসলাম অনুযায়ী পরিচালিত হয়, সেই রাষ্ট্রও হবে বিশ্বের মধ্যে মডেল। তিনি সূরা আসরের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহতায়ালা ঈমানদার, সালেহীন, সত্যবাদী ও ধৈর্য্যধারনকারী ছাড়া সকল মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই তিনি সকলকে দেশ ও জাতির স্বার্থে ইসলামের সুমহান আদর্শের ছায়াতলে সমবেত হওয়ার জন্য আহবান জানান।

দাওয়াতুন্নবী স. উপলক্ষ্যে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত দুই দিন ব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে ১ম দিন প্রধান অতিথির বয়ানে মুফতী ফয়জুল করীম এসব কথা বলেন। দাওয়াতুন্নবী স. মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তাফসীর মাহফিলে আরো বয়ান পেশ করেন, খুলনার পীর সাহেব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, শায়খ জাকারিয়া রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা-এর মহাপরিচালক মুফতী মিযানুর রহমান সাঈদ ও জামিআ কারীমিয়া আরাবিয়ার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস মাওলানা মকবুল হোসাইন। মাহফিলে দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার বাদ আছর থেকে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গতমাসের ২৭ ও ২৮ মার্চ মাহফিলের তারিখ নির্ধারিত ছিল। প্রশাসনের অনুমতি না হওয়ায় দ্বিতীয় দফা ১৮ ও ১৯ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয় তাতেও প্রশাসনের অনুমতি মেলেনি। সর্বশেষ ২১ ও ২২ এপ্রিল সোম ও মঙ্গলবার মাহফিলের অনুমতি দেয়া হয়। মাহফিল নিয়ে বার বার তারিখ পরিবর্তনে ধর্মভীরু সাধারণ জনতার মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সর্বত্র সংশয় ও ক্ষোভ দেখা দেয়। সবকিছুর জল্পনা কল্পনার অবসান করে আজ ঐতিহাসিক এই মাহফিল শুরু হয়। মাহফিল নিয়ে রাজধানীর সাধারণ মুসলমানদের মাঝে কৌতুহলের শেষ ছিল না। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জনতার দৃষ্টি ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে। রাজধানীর সকল এলাকা থেকে আছর নামাযের আগেই হাজার হাজার উৎসুক ইসলামপ্রিয় জনতা মাহফিলস্থলে পৌঁছতে থাকে। মাগরিবের নামাজের সময় জনতার উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়। রাত ৮.৩০ মিনিটে যখন মুফতী ফয়জুল করীম মঞ্চে উঠেন তখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিল ধারণের ঠাই ছিল না। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আল্লাহ আল্লাহ জিকিরে মুখরিত করে তোলেন লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

Comments

comments

About The Author