You Are Here: Home » featured » ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আলোচনা সভায় অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ : ইসলামী আন্দোলন বাতিলের তাঁবেদারি করে না

২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আলোচনা সভায় অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ : ইসলামী আন্দোলন বাতিলের তাঁবেদারি করে না

২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আলোচনা সভায় অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ : ইসলামী আন্দোলন বাতিলের তাঁবেদারি করে না

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ আজকের দিনে এক রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আত্ম প্রকাশ করে। প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার মুলোৎপাটন করে দেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার দীপ্ত শপথ নিয়েই এর আত্ম প্রকাশ। কিন্তু সেদিন স্বৈরাচারী সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা করেছিল। সেদিন ঈমানদার জনতা ঈমানী চেতনায় বলিয়ান হয়ে তাগুতি শক্তিকে রুখে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পরম পাওয়া হলো তাগুতি শক্তির কাছে মাথানত না করা। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনেও এ সংগঠনটি আদর্শচ্যূত হয়নি বরং ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সম্মুখপানে এগিয়ে যাচ্ছে জোরকদমে। দেশ স্বাধীন হলেও আধিপত্যবাদী শক্তির আগ্রাসন বন্ধ হয়নি। ইসলামের চেতনায় নব্য নাস্তিক-মুরতাদ ও নবীর দুশমনসহ সকল ষড়যন্ত্রকারী, আন্তর্জাতিক আধিপত্য শক্তিকে রুখে দিতে হবে। যারা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দিতে চায় দেশবাসী তাদেরকে দেশ থেকে তুলে দিবে, ইনশাআল্লাহ।

রবিবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ইসলামী আন্দোলনের ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীনের সভাপতিত্বে পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, ছাত্রনেতা হাসিবুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, সেক্রেটারী মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, শ্রমিকনেতা হারুনুর রশিদ, মুহা. ঈমান উদ্দিন, নগরনেতা মাওলানা নাযির আহমাদ শিবলী, মাওলানা বাছির উদ্দিন মাহমুদ, এ্যাডভোকেট সর্দার মোঃ মানিক মিয়া, মুফতী ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।

তিনি আরও বলেন, বিরানব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে চক্রান্ত চলছে। এ চত্রান্ত বন্ধ না করলে সর্বত্র আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে। অন্যায়- অসত্য ও দেশবিরোধী, ইসলামবিরোধী শক্তির ক্রীড়নকদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে যে কোন বিবেকবান মানুষের অন্তরকে নাড়া না দিয়ে পারে না। চলমান সঙ্কটের মুলে না গিয়ে এবং সমস্যার সমাধান কোনপথে তা চিন্তা না করে কেবল পুলিশ দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করলে শুভ হবে না। শান্তিকামী জনতা এ অবস্থা মেনে নিতে পারে না। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে বিজয়ী করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও কায়েমী স্বার্থবাদীরা যখন দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে, যখন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত ঠিক তখনই ইসলামী আন্দোলন ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলাম নিয়ে সরকারের ছত্রছায়ায় একটি মহল ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠেছে। রাষ্ট্রধর্ম সংবিধানে একটি মীমাংসিত বিষয়। এটি নিয়ে টানাহেঁচড়া শুভ লক্ষণ নয়। আমাদের দেশের শাসক শ্রেণীর দূর্বলতার কারণে আমাদের দেশে হস্তক্ষেপ করার সাহস দেখাচ্ছে। নাস্তিক মুরতাদ ও ইসলাম বিরোধী শক্তির মোকাবেলায় সাহাবায়ে কেরামের মত ত্যাগ ও কুরবানীর নজির স্থাপন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ইসলাম বাতিলের রিটটি গ্রহণ করাই ইসলামবিরোধী। কাজেই এই রিটটি বাতিল করতে হবে। অবিলম্বে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ৯৩ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিক-মুরতাদ ও ধর্মবিদ্বেষী শক্তিগুলো যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে তাতে ঈমানদার জনতা ঈমানী শক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

Comments

comments

About The Author

Number of Entries : 673