৫৫/বি (৩য় তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৯৫৬৭১৩০, ফ্যাক্স : ০২-৭১৬১০৮০

জনসমর্থনহীন সরকারের ব্যর্থতায় দেশের সর্বত্র বিপর্যয় চলছে – সংবাদ সম্মেলনে পীর সাহেব চরমোনাই

  • হোম
  • জাতীয় কর্মসূচি
  • জনসমর্থনহীন সরকারের ব্যর্থতায় দেশের সর্বত্র বিপর্যয় চলছে – সংবাদ সম্মেলনে পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, জনসমর্থনহীন সরকারের ব্যর্থতায় দেশের সর্বত্র বিপর্যয় চলছে। তিনি বলেন, হাজার বছর ধরে হিন্দু-মুসলিমরা এই ভূখণ্ডে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। মানুষ যার যার ধর্ম পালন করছে। কুমিল্লার একটি মন্দিরে পবিত্র কুরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে এবং ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর স্ট্যাটাসকে ইস্যু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে, আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত বিচার চাই।

তিনি আরো বলেন, বাঙ্গালীর হাজার বছরের ইতিহাস এবং মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষা এ ধরণের ঘটনাকে সমর্থন করে না। ঘটনার সূত্রপাত থেকে পরবর্তী প্রত্যেকটি ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার ছাপ স্পষ্ট। ৫০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে এ ধরণের ব্যর্থতা কল্পনাতীত। জনপ্রশাসনে অতিমাত্রায় রাজনীতি প্রবেশের কারণে সামগ্রিকভাবে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় এক ধরণের অদক্ষতা তৈরি হয়েছে; যার খেসারত এসব ঘটনা।

তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পরে জনরোষ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। সেই রোষে মানুষ বিক্ষোভ করবে তাও স্বাভাবিক। বেসামরিক বাহিনীগুলোকে এই ধরণের গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত করার কথা। ৫০ বছরের স্বাধীন একটি দেশের বেসামরিক বাহিনী গণবিক্ষোভ দমনে গুলি করার মতো চরম সিদ্ধান্ত সহজেই নিয়ে নিচ্ছে। যার প্রতিফলন নিকট অতিতে ভোলায়, হাটহাজারীতে ও বি-বাড়িয়ায় দেখা গেছে। চাঁদপুরেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একই রকমভাবে চরমপন্থা অবলম্বন করে বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে অন্তত ৫ জনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর অল্পতেই এমন চরমপন্থা গ্রহণ করার প্রবণতা জনস্বাধীনতা, নাগরিক বোধ ও সভ্যতার জন্য ভয়ের কারণ। কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী দেশের একশ্রেণির মিডিয়া, সরকারী দলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সুশীল সমাজ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তা আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের সব ধরণের নীতি-নৈতিকতা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই ধরণের আগবাড়ানো প্রতিক্রিয়াশীলতায় এই ঘটনার অন্তরালে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নোংরা কৌশলের আভাস পাওয়া যায়। কুমিল্লার ঘটনার পরে বাংলাদেশের এক শ্রেণির মিডিয়া, রাজনৈতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজ যেভাবে ঘটনাকে কেবলমাত্র সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে ব্যাখ্যা করেছে; তা হতাশাজনক।

আজ ২৩ অক্টোবর ২০২১ বুধবার ইসলামী আন্দোলনের পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের চলমান সঙ্কটময় পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব খন্দকার গোলাম মাওলা, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারি মহাসচিব মাওলানা আবদুল কাদের, মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, কে এম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, মাওলানা আহমদ আবদুুল কাইয়ূম, মাওলানা খলিলুর রহমান, উপাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা শেখ ফজুলল করীম মারুফ, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা নূরুল ইসলাম আল-আমীন, মুফতী হেমায়েতুল্লাহ, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, এড. লুৎফুর রহমান, এড. শওকত আলী হাওলাদার, আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, আলহাজ্ব মনির হোসেন, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মাওলানা মকবুল হোসাইন, আলহাজ্ব সেলিম মাহমুদ প্রমুখ।

পীর সাহেব লিখিতে বক্তব্যে বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় একটি কুচক্রিমহল সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মকে অবমাননা করে ঘোলা পানিতে স্বার্থ হাসিল করতে চায়। কারণ- ১. এই ধরণের ঘটনার কখনোই সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয় না। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই অনেক কথা হয়, আশ্বাসবাণী শোনানো হয় কিন্তু বিচার হয় না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই অপশক্তিগুলোকে বারংবার ধর্ম অবমাননা করে উত্তেজনা তৈরির কৌশল ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে। ২. বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননা করার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন আইন নেই। ফলে যে ধর্মের অবমাননা করা হয় সেই ধর্মের অনুসারীরা এক ধরণের অসহায় বোধ করে। সেই অসহায় বোধ থেকেই তারা তৎক্ষণাৎ বিক্ষোভ দেখানো এবং ক্ষেত্র বিশেষে সহিংস বিক্ষোভ প্রদর্শনে উৎসাহিত হয়। ৩. ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা ও মন্ত্রীরা প্রায় নিয়মিত বিরতিতে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষদগার করে থাকেন। সাম্প্রতিক একজন অপরিণামদর্শী প্রতিমন্ত্রীর বালখিল্যতা জাতি দেখেছে। অপরিপক্ক সেই প্রতিমন্ত্রী যেভাবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে মন্তব্য করেছেন, তাতে জন-ক্ষোভ আরো বেড়েছে। ৪. দেশে যখন একদলীয় শাসন চলে, সরকার যখন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কোণঠাসা করে রাখে তখন অনিয়ন্ত্রিত বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কুমিল্লা ও দেশব্যাপী তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। ৫. রাষ্ট্রের সরকার যখন স্বৈরাচারী ও শক্তি নির্ভর হয় তখন যেকোনো সামাজিক সমস্যার সমাধানে জনতার মাঝেও শক্তি নির্ভর পন্থার প্রাবল্য দেখা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয় :
১. কুমিল্লার ঘটনা ও তৎপরবর্তী ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি করতে হবে। এখানে কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা, বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও মূর্তি ভাঙ্গা, রংপুরে আগুন দেয়া এবং চাঁদপুরে বিক্ষোভে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে এবং সেই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসন্মুখে প্রকাশ করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। ২. ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন করতে হবে এবং সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে কোন ধরণের ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটলে জনতা আর সহিংস হয়ে উঠবে না। ৩. রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের অতি বাচাল প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। মানুষের আবেগ-অনুভূতির জায়গায় আঘাত করে মন্তব্য করার প্রবণতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তারই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অতি বাচাল তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রীসভা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ৪. দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরাতে বিরোধী দলগুলোর ওপরে দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। আটক রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৫. শাসন ব্যবস্থায় জনতার মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে এবং সহনশীল, বহুদলীয়, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ৬.বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করে এবং তাদের নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে বাহিনীগুলোকে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। ৭. গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে গুলি করার মতো চরমপন্থা অবলম্বন করার প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ৮. ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও সংখ্যালঘুদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ী সরকারীভাবে নির্মাণ করে দিতে হবে এবং চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যক্তি ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৯. দেশের একশ্রেণির মিডিয়া, রাজনৈতিক সংগঠন ও তথাকথিত সুশীল সমাজ এই ধরণের ঘটনায় যেভাবে ধর্মকে কেন্দ্র করে একচোখা বয়ান দাঁড় করায়, তা বন্ধ করতে হবে। বাঙ্গালী জাতির ইতিহাস ও মনস্তত্ত্ব বিরোধী তাদের এই ধরণের বয়ান নির্মাণের পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। ১০. প্রতিবেশী দেশকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দিতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রভাবে দেশে সার্বিক দারিদ্র্যের হার (আপার প্রোভার্টি রেট) বেড়ে ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিআইডিএস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, করোনায় বাংলাদেশে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্রসীমার নিচে নেমে গেছে। আগের হিসাব যোগ করে গরিব মানুষের এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ কোটির বেশি। অন্যদিকে ক্যাবের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬.৮৮%। গত ৩ বছরের ভেতর এটি সর্বোচ্চ। আর ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মতে, গত একমাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ১৯.৬৪%। একদিকে করোনার কারণে মানুষের আয় কমে যাওয়া, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের এই সীমাহীন বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।

পীর সাহেব বলেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের প্রধান কাজগুলোর একটি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলে, সরকার এই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এখানে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ-
১. পণ্যের প্রাক উৎপাদন ধাপসমূহ এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে একদল মধ্যস্বত্ত্বভোগীর মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়ায়। ফলে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই মধ্যসত্ত্বভোগী শ্রেণির প্রায় পুরোটাই রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী। উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝে পণ্যের দামের পার্থক্য নিয়ে সুনির্দিষ্ট আইন করতে হবে। ২. আমদানিকৃত পণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি বন্ধে টিসিবিকে আধুনিকায়ন ও দক্ষ করে তুলতে হবে। কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। ৩. দেশের নীতি নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের আধিক্য কমাতে হবে। ৪. পরিবহন খাতে মাসে ৩০০ কোটি টাকার বেশি চাঁদাবাজি হয়; যার প্রভাব গিয়ে সরাসরি ভোক্তার ওপরে পরে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, একটি শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন নির্বাচন কমিশন দেশের সংবিধান রক্ষা ও জনতার সরকার প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করেই ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কময় নির্বাচন করা হয়েছে। গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে যে, এই নির্বাচন কমিশন কতটা নির্মমভাবে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। চলতি ইসি ও তাদের নিয়োগকর্তারা যে ইতিহাসের কালো স্থানেই থাকবেন, তা বলাই বাহুল্য।

তিনি বলেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি নিয়োগ করা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। সার্চ কমিটির বাছাই করা ইসি যে কত জঘন্য হতে পারে তার নজীর তো এখনো চলমান। আসলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে এসব সার্চ কমিটি আর আইন কোনটাই ফল দেবে না। এজন্য সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন ইসি গঠন অথবা প্রতিনিধিত্বশীল দলগুলো থেকে একজন করে নিয়ে একটি সর্বদলীয় ইসি গঠন করুন। অন্যথায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অবস্থার প্রেক্ষিতে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলবে, তারপরেও জনতার ভোট নিয়ে আর কোন ছলচাতুরী করতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশজুড়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু সরকারদলীয় স্থানীয় মাস্তানরা মনোনয়ন ফর্ম জমাদানে বাঁধা, প্রার্থীদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভয়-ভীতি দেখানোসহ নানা রকম মাস্তানি করেই যাচ্ছে। এখানে মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচনে অংশ নেয়া আমাদের অধিকার। নির্বাচন কমিশনকে বলবো, পাপের খাতা অনেক ভারি হয়েছে। শেষকালে এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করে সেই পাপ খানিকটা মোচন করে যান।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মামলা হলো অপরাধী সংশোধনের আইনি প্রক্রিয়া; বর্তমানে মামলা ভিন্নমত দমনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। চলতি ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বহু মামলা হয়েছে এবং তাতে হাজার-হাজার বেনামী আসামী দেখানো হয়েছে। কোন নিরীহ মানুষকে যাতে হয়রানী করা না হয়। দেশে বিভিন্ন কারাগারে শত শত ওলামায়ে কেরাম আটক অবস্থায় আছেন। মামলা মাথায় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার ওলামা। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ নাই, এমন ওলামা ও রাজনৈতিক বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দিন এবং মামলা প্রত্যাহার করুন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা হরণের জন্য তথ্য প্রযুক্তি আইনের যথেচ্ছা রাজনৈতিক ব্যবহার সর্ব-মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল করীম আকরাম এবং ঢাকা মহানগর উত্তর প্রচার সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পরশের বিরুদ্ধেও এ আইনে ভিত্তিহীন একটি মামলা করা হয়েছে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে পীর সাহেব চরমোনাই কর্মসূচী ঘোষণা করেন যে, আগামী ২৭ অক্টোবর দেশের চলমান সংকট ও তা থেকে উত্তরনের লক্ষে দেশের সর্ব-মহলের শীর্ষস্থানীয় পীর-মাশায়েখ, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও সমাজকর্মীদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আমীরের লিখিত বক্তব্যের ডকুমেন্ট ফাইল

ভিডিও

শেয়ার করুন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook

অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন

Scroll to Top

সদস্য ফরম

নিচের ফরমটি পূরণ করে প্রাথমিক সদস্য হোন

small_c_popup.png

প্রশ্ন করার জন্য নিচের ফরমটি পূরণ করে পাঠিয়ে দিন