৫৫/বি (৩য় তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৯৫৬৭১৩০, ফ্যাক্স : ০২-৭১৬১০৮০

নরেন্দ্র মোদির মতো ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাইলফলকে উপস্থিত থাকা স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী

  • হোম
  • বিবৃতি
  • নরেন্দ্র মোদির মতো ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাইলফলকে উপস্থিত থাকা স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমন্ত্রিত হওয়ার নৈতিক যোগ্যতা রাখেন না। বরং নরেন্দ্র মোদির মতো উগ্র সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই মাইলফলকে উপস্থিত থাকা স্বাধীনতার মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, মুসলমানের কাছে ইসলাম নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয়। এদেশে ইসলাম টিকে থাকলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকে থাকবে। ইসলাম না থাকলে স্বাধীনতাও থাকবে না। ইসলামের ওপর ভিত্তি করেই দেশ স্বাধীন হলেছিল। এখন যারা ইসলাম সংবিধান থেকে বাদ দিতে চায় দেশের স্বাধীনতায় তাদের কোন অবদান ছিল না।

পীর সাহেব বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ ও দলমতের প্রবল বিরোধীতা সত্ত্বেও নরেন্দ্র মোদিকে সুবর্ণ জয়ন্তীতে দাওয়াত দেশের স্বাধীনতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী কারো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান নয়। মোদিকে এনে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে কলঙ্কিত করা হবে। সীমান্তে কাটা তারের বেড়ায় ফেলানীর লাশের রক্তে যার হাত রঞ্জিত সেই মোদির আগমন জনগণ মেনে নিবে না।

আজ এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর মুহুর্তে এমন নিষেধাজ্ঞা স্বাধীনতার মৌলিক চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। মানুষের রক্তে কেনা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনে সরকারের এমন বিধি-নিষেধ অত্যন্ত নিন্দনীয়। অবিলম্বে সকল বিধি-নিষেধ তুলে নিতে হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, মেহমানকে আপ্যায়ন করা ইসলামের রীতি। এমনকি সে যদি আপন পিতার হত্যাকারীও হয় তবুও। এটা ইসলামের সৌন্দর্য্য। সে হিসেবে বাংলাদেশে আমন্ত্রিত সকল বিদেশি মেহমানদের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিষয়টি আলাদা। তার অতীত সহিংস এবং ক্ষমতা গ্রহণের পরে ভারত জুড়ে তিনি যে ধর্মীয় সহিংসতা উস্কে দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশে তাকে স্বাগত জানানোর মতো কোনো পরিবেশ নেই। নরেন্দ্র মোদি ভারতে বৈষম্য, সংখ্যালঘুদের ওপরে অত্যাচার-নিপীড়ন, ধর্মীয় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষকে পিটিয়ে মারা, কাশ্মীরের মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া এবং সিএ-এর মতো বর্ণবাদী আইন করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতে বসবাস করা মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার মতো কাজ করছে। একই সাথে তিনি প্রতিবেশিদের সাথে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী আচরণ করাসহ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার পরিপন্থী কার্যক্রমের প্রধান কুশিলবদের একজন।

পীর সাহেব বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তে প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা, বাংলার মানুষের প্রাপ্য পানি নিয়ে অবৈধ কারসাজী, কুটকৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিকূলে বাণিজ্য ঘাটতি জিইয়ে রাখা, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং আগ্রাসী বিনিয়োগ করে বাংলাদেশকে দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি গ্রহনে বাধ্য করা ইত্যাদি কারণে নরেন্দ্র মোদিকে বাংলার মানুষ স্বাগত জানাতে পারে না।

শেয়ার করুন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook

অন্যান্য বিবৃতি, আমীরের বিবৃতি

Scroll to Top

সদস্য ফরম

নিচের ফরমটি পূরণ করে প্রাথমিক সদস্য হোন

small_c_popup.png

প্রশ্ন করার জন্য নিচের ফরমটি পূরণ করে পাঠিয়ে দিন