ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ফ্যাসিবাদ বিরোধি লড়াইয়ের একজন অগ্রনায়ক। চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্যাসিবাদের মুখোমুখি হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান উত্তর বাংলাদেশে তাকে হয়রানী ও মামলার লক্ষ্যবস্তু বানানোর পরিনতি ভালো হবে না।
আজ ২৪ জুন, বুধবার এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই এর বিরুদ্ধে সাইবাব সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলা যে দায়ের করেছে সে আগে যুবলীগের সাথে জড়িত ছিলো, এই সংক্রান্ত বহু ছবি আছে। সরকার বদলের পরে সে ভোলপাল্টে যুবদলের একটি ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়া শুরু করেছে; যদিও সেই ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি ও জেলা যুবদলের সদস্যসচিবসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাকে যুবদলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। আমরা মনে করছি, পতিত ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা ফ্যাসিবাদ বিরোধি লড়াইয়ের অগ্রনায়কদের হয়রানী করতে মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
এখানে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি জনাব রকিবুল ইসলামের ভূমিকাও সন্দেহজনক। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই এর মতো একজন জাতীয় নেতার নামে যে কেউ একজন এসে এজহার দায়ের করলেই সেটা মামলা হিসেবে গ্রহণ করাটা সন্দেহজনক। আমরা সরকারের কাছে আহবান করবো, এই মামলা দায়েরের বিষয়টি তদন্ত করুন। সাবেক যুবলীগের এক নেতার দায়ের করা এজহারে তড়িঘড়ি করে একজন জাতীয় নেতার নামে মামলা নেয়া ফ্যাসিবাদের দোসরদের সংঘবদ্ধ অপচেষ্টা কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। এই ওসি ফ্যাসিবাদের গুপ্ত দোসর কিনা তাও তদন্তে আনতে হবে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা আশা করছি, এই মামলার সাথে বিএনপি ও সরকারের কোন সম্পৃক্ততা নাই। বিএনপির দায়িত্বশীল বা নীতি নির্ধারনী কেউ এর সাথে জড়িত না। তথাপিও বিএনপির সাথে সম্পৃক্ততার পরিচয়ে একজন মামলা করেছে। সরকারের একজন কর্মকর্তা সেই মামলা গ্রহণও করেছে। এখন এর সমাধানের দায়িত্বও সরকারকেই নিতে হবে। আমরা দাবী করছি যে, অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং যে মামলা করেছে এবং যে লীগের সাবেক নেতার দায়ের করা এজহারকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে তাদেরকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। এরা ফ্যাসিবাদের গুপ্ত দোসর হলে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, আমরা সরকারের আচরন ও তৎপরতা লক্ষ করবো। আমরা চাইছি, বিষয়টি সহজে শেষ হোক। কারণ, মুফতি সৈয়দ মু. ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে অপতৎপরতার পরিনতি কারো জন্যই ভালো হবে না।



