চট্টগ্রামে পূর্বঘোষণা দিয়ে চাঁদা দাবি করা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ- মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, গতকাল চট্টগ্রামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যে পদ্ধতিতে চাঁদাবাজি ও হামলা হয়েছে, তা ভয়াবহ। দেশি-বিদেশি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেওয়া এবং পূর্বঘোষণা দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করার যে ঘটনা ঘটেছে, তা কোনো রাষ্ট্রে হওয়া সম্ভব না। যে রাষ্ট্রে সরকার আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, একটি প্রশাসন আছে, সেখানে যুদ্ধাবস্থাতেও এটা হওয়া সম্ভব না। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, আমাদের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে তা ঘটেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুকতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং অপরাধীদের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
আজ ১৪ জুলাই, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই দাবি জানান। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ থমকে আছে। যার পেছনে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও নিরাপত্তার অভাব অন্যতম প্রধান কারণ। এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে চার মাস হতে চলল। এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান করতে পারেনি। বরং একের পর এক বিভীষিকাময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিবরণ সামনে আসছে। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। অথচ একজন আইনমন্ত্রী আছেন। আমরা বলি, যদি সালাহউদ্দিন আহমেদ সাহেবকে আইন ব্যাখ্যায় বেশি প্রয়োজন হয়, তাহলে তাকেই আইনমন্ত্রী করুন। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ্য ও নিবেদিত কাউকে বসান। কারণ আইনশৃঙ্খলার এহেন অবনতি রাষ্ট্রকে “ব্যর্থরাষ্ট্র” হিসেবে উপস্থাপিত করছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, বিপুল ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর যদি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে বা বাহিনীকে সক্রিয় করতে না পারে, তাহলে তা সরকারের সামগ্রিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। ফলে সরকারের নিজের জন্য এবং জাতির জন্য আইনশৃঙ্খলা খাতে সফলতা দৃশ্যমান হতেই হবে।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
