৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে শংকা রয়েছে
-মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর “বিশিষ্ট ব্যবসায়ী” জনাব মোস্তাকুর রহমান “বন্ধ কারখানা চালু, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দিতে” ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছেন। বেসরকারী খাতে এই তহবিল ছাড়া কোন উপায় ছিলো না বলে গভর্নর মন্তব্য করেছন এবং ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের আশা ব্যক্ত করেছেন।
আমরা মনে করি, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে, বাংলাদেশ ব্যাংককে সক্রিয় হতে হবে কিন্তু এই ধরণের প্রণোদনা তহবিল নিয়ে আমাদের অতিত অভিজ্ঞতা মধুর না। ফলে তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে আশংকা থেকেই যাচ্ছে।
আজ ২৪ মে রবিবার এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই মন্তব্য করেন। ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গভর্নরের মন্তব্যে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে বলেন, বেসরকারী খাতে এমন তহবিলের অপরিহার্যতার যে যুক্তি গভর্নর দিয়েছেন তা “একজন ব্যবসায়ীর দৃষ্টিভঙ্গি” বলে মনে করার কারণ আছে। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যপারে তার এবং বিএনপি সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্নের জায়গা আছে। কারণ বিএনপি অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিয়েছিলো এবং তাদের মধ্যে এগারোজন এমপি হয়ে সংসদেও আছেন। ফলে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে তার বক্তব্যে আস্থা রাখা দুস্কর।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব বলেন, ব্যাংকিংখাতে যেসব সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছিলো তা কার্যত বন্ধ করা হয়েছে। টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে এবং পাচারকৃত টাকা উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তেমন কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ববিখ্যাত ও প্রভাবশালী ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান ফিচ রেটিংস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আউটলুককে স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক করেছে। আইন সংশোধন করে এস আলমের মতো প্রতিষ্ঠানকে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে জনমনে সংশয় ও প্রশ্ন রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা সংশয়কে আরো ঘনিভূত করেছে। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, অর্থনীতির স্বার্থে প্রয়োজনীয় সকল কিছু করতে হবে। তবে তা হতে হবে যথাযথ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থে, কোন গোষ্টিস্বার্থে নয়। সেজন্য এই ধরনের তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী নজরদারীর ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা আর কোন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের সম্পদ লুটপাট হতে দিতে পারি না।
বার্তা সম্পাদক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ