ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে সহিংস দিক ছিলো ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ও আধিপত্যবিস্তার। তারা ক্যাম্পাসগুলোতে নিজ দলের বাইরে কারো অস্তিত্বও স্বীকার করতে চাইতো না। নির্মম মারধোর করে এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে পিটিয়ে হত্যা করার মতো বর্বরতাও তারা করেছিলো। চব্বিশের জুলাই আগষ্টে যে তারুণ্যের বিস্ফোরণ ঘটেছিলো তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিলো ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস। জুলাইয়ের পরে আমরা ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের সহ-অবস্থানের প্রত্যাশা করেছিলাম। ক্যাম্পাসগুলোতে পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করার আশা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের আশার গুড়ে বালি পড়েছে। গতকয়েক দিনে দুইটি ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে ক্যাম্পাস আবারো উত্তপ্ত হয়েছে। সন্ত্রাস ফিরে এসেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের হানাহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
আজ ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ভোলা জেলা উত্তর ও দক্ষিণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শুরার অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।
ভোলার চরফ্যাশন টাউন হলে ভোলা জেলা দক্ষিণে সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, যারা ক্যাম্পাসে দলীয় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করছেন তাদেরকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। পুরোনো বন্দোবস্তের সন্ত্রাস নির্ভর রাজনীতির চর্চা যারা করছেন তাদেরকে জাতি অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করবে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি ও জনজীবনে নিরাপত্তার বিষয় তুলে বলেন, এই বিষয়গুলোর সমাধান করতেই হবে। বৈশ্বিক সংকট, বিগত বছরগুলো অনিয়মের কথা বলে পাড় পাওয়া যাবে না। সরকারকে তার কাজে দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমান দিতে হবে। অন্যথায় জনমত আপনাদের বিপক্ষে যেতে সময় লাগবে না।
সমাবেশে প্রফেসর মাওলানা এ এমএম কামাল উদ্দিনকে সভাপতি, মাওলানা গোলাম মোর্শেদকে সহসভাপতি ও মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে সেক্রেটারি করে কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়।