খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিলে কিছু খেলাপিরা ছাড় পাবেন কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে ব্যাংকে টাকা ফেরে না
-মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, সরকার যেসব প্রতিষ্ঠান বা শিল্পগোষ্ঠীর ঋণস্থিতি এক হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি তাদেরকে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৫ বছরে ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগে এ সময় ছিল ১০ বছর। এর পক্ষে কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানিসংকট, বাজারভিত্তিক সুদহারের কারণে ঋণের ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ব্যবসার গতি কমে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমেছে। তবে বাংলাদেশের অতিত অভিজ্ঞতায় বলে, এই নীতি ব্যাংকের খাতায় খেলাপি ঋণ সাময়িকভাবে দেখালেও সেই হারে ঋণ আদায় বাড়েনি; বরং পুনঃ তফসিল করা ঋণের বড় অংশ আবার খেলাপি হয়েছে। বরং বড় খেলাপিরা আরো সময় পায় এবং সমস্যাকে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেয়া হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, খেলাপি ঋণ কমাতে আর্থিকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।
আজ ৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি মোট ঋণ ৩২.৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতে তা ১ দশমিক ৮ শতাংশ, নেপালে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, অর্থনৈতিক মন্দায় বিপর্যন্ত হওয়া শ্রীলংকাতেও মাত্র ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। আর্থিকখাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার এই চিত্র আমাদের জাতিগত কলংক তিলক হয়ে উঠেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বিনিয়োগ বাড়াতে মন্দঋণ পুনঃ তফসিল করার নীতি নেয়া হলেও জ্বালানি সংকট দুর করতে না পারলে, দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন আনতে না পারলে, আইন-শৃখংলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এবং সার্বিকভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে বিনিয়োগ আসবে না। তাই সরকারের প্রতি পরামর্শ থাকবে, সরকারকে দক্ষ ও সক্রিয় করুন। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করুন। সংস্কারে মনোযোগী হোন।
বার্তা প্রেরক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ
সহকারী মহাসচিব ও বিভাগীয় প্রধান
কেন্দ্রীয় প্রচাররও মিডিয়া বিভাগ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ



