ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে সুশাসন (good corporate governance) প্রতিষ্ঠিত নাই। বাণিজ্যিক সুশাসন হলো, ব্যবসা –বাণিজ্য হবে অংশগ্রহণমূলক, জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ, সংবেদনশীল, কার্যকর ও দক্ষ, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আইনের শাসন অনুসরণকারী । কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো একচ্ছত্র আধিপত্যবিস্তারি মনোভাবের মুনাফালোভী। তাদের মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা নাই, ন্যায়-অন্যায় বাছবিচার নাই, স্বচ্ছতা নাই, জবাবদিহিতা নাই এবং আইনের প্রতি মান্যতা নাই। তারা আইন মান্য করার চেয়ে সরকারী কর্মকর্তাদের কিনে নেয়ার কৌশলে বিশ্বাস করে। ফলে জ্বালানি আমদানী, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরন ও বিপনন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দিলে লুটপাটের নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হবে। বিদ্যুত উৎপাদন বেসরকারীখাতে ছাড়ার মাসুল আজো জাতিকে গুনতে হচ্ছে। ক্যাপাসিটি চার্জ নামক অভিশাপে বিদ্যুতখাত জর্জরিত। এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন মনে করে, বাণিজ্যিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাত বেসরকারীকরণ করা ঠিক হবে না
আজ ৯ আগস্ট, রবিবার এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই মন্তব্য করেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, পুজিবাদের নীতি অনুসারে পরিচালিত আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ মান্য করে সবক্ষেত্রে ভর্তুকি তুলে দেয়া বা জনগুরুত্বপূর্ণ খাত বেসরকারীকরণ করার পরিনতি কারো জন্যই ভালো হয় নাই। বিশ্বের ইতিহাস তাই বলে। বিশ্বের সকল সরকারই ভর্তুকি দেয়। সরকারকে এমন ক্ষেত্রেই ভর্তুকি দেয়া উচিৎ যার সুবিদা সার্বজনিন। জ্বালানি ও বিদ্যুত তেমনি খাত। তাই সরকারকে বলবো, বেসরকারীকরণ নিয়ে ত্বরাপ্রবণ হবেন না। দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় রাখতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, সরকারের আয় বাড়াতে রাজস্ব আদায়ে দক্ষতা ও সততা নিশ্চিত করুন। রাজস্ব আইন সহজ করুন। বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হয় তা কর-জিডিপি অনুপাতে অনেক কম। আর এর প্রধান কারণ রাজস্ব কর্মকর্তাদের দুর্নীতি। রাজস্ব অফিসে যাতায়াত আছে এমন সবাই জানে যে, উৎকোচ দিয়ে করফাঁকি দেয়া যায় এবং সবাই তা করেও। এগুলো ওপেন সিক্রেট। তাই সরকারকে বলবো, অর্থের দায় কমাতে বিদ্যুত ও জ্বালানি বেসরকারীখাতে না ছেড়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করুন। সিস্টেমলস দুর করুন।


